আরও দেখুন
মঙ্গলবার, মাসব্যাপী চলমান দরপতনের মধ্যে EUR/USD কারেন্সি পেয়ারের মূল্যের কারেকশনের আরেকটি দুর্বল প্রচেষ্টা পরিলক্ষিত হয়েছে। এই পেয়ারের মূল্য আবারও ডিসেন্ডিং ট্রেন্ডলাইন ব্রেক করে উপরে উঠে এসেছে, কিন্তু প্রতিবারই এই ব্রেকআউট কোনো ঘুরে দাঁড়ানোর পরিস্থিতি বা দীর্ঘস্থায়ী মূল্যবৃদ্ধি ঘটাতে ব্যর্থ হচ্ছে। সংক্ষেপে বলতে গেলে, এই পেয়ারের মূল্য ট্রেন্ডলাইনের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ টেকনিক্যাল সূচককে উপেক্ষা করছে। তাছাড়া, ট্রেডাররা কেবল ট্রেন্ডলাইনকেই উপেক্ষা করছেন না; তারা সামষ্টিক অর্থনৈতিক, মৌলিক এবং ভূ-রাজনৈতিক বিষয়গুলোকেও উপেক্ষা করছেন—অথবা অন্তত সেগুলোকে কেবল মার্কিন ডলারের অনুকূলেই ব্যাখ্যা করছেন। বাহ্যিকভাবে মনে হতে পারে যে এই পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী প্রবণতা শেষ হয়ে গেছে, কিন্তু বাস্তবে যেকোনো সময় এবং যেকোনো কারণে পুনরায় এই পেয়ারের দরপতন শুরু হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, আজ যুক্তরাষ্ট্রে মুদ্রাস্ফীতি বিষয়ক প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে এবং ট্রেডাররা এটিকে বছরের শেষ নাগাদ ফেডারেল রিজার্ভের আরও কঠোর বা হকিশ অবস্থান গ্রহণের সম্ভাবনা বৃদ্ধির ইঙ্গিত হিসেবে বিবেচনা করতে পারেন। এমনকি প্রতিবেদনে কী ফলাফল উঠে আসছে তা হয়তো খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ নাও হতে পারে: যদি মুদ্রাস্ফীতির হার পূর্বাভাসের চেয়ে বেশি হয়, তবে প্রায় ৯০ শতাংশ সম্ভাবনা রয়েছে যে মার্কিন ডলারের দর বৃদ্ধি পাবে; আর যদি তা না হয়, তবে সেটি পরোক্ষভাবে মার্কিন ডলারের বর্তমান 'গল্প' বা আধিপত্যের সমাপ্তির ইঙ্গিত দিতে পারে।
মঙ্গলবার 5-মিনিটের টাইমফ্রেমে একটি সেল সিগন্যাল গঠিত হয়েছিল, তবে তা নতুন ট্রেডারদের জন্য কোনো মুনাফা নিয়ে আসেনি। ইউরোপীয় সেশনের সময় এই পেয়ারের মূল্য 1.1198 লেভেল থেকে রিবাউন্ড করলেও পরবর্তীতে মাত্র 15 পিপসের মতো দরপতন ঘটেছিল—যা ব্রেক-ইভেনে স্টপ লস সেট করার জন্য যথেষ্ট ছিল।
ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে, EUR/USD পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে যা এখন পূর্ণাঙ্গ প্রবণতায় রূপ নিয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোর ঘটনাপ্রবাহ বিবেচনায়, হঠাৎ করেই ইউরোর ব্যাপক দরপতন ঘটবে—এমনটা আমরা মনে করছি না; তবে ট্রেডাররা এখনও মার্কিন ডলার ক্রয় করে যাচ্ছে এবং যেকোনো ইভেন্ট, প্রতিবেদন এবং এমনকি টেকনিক্যাল বিষয়গুলোও উপেক্ষা করে চলেছে।
বুধবার, এই পেয়ারের মূল্য 1.1198–1.1218 এরিয়া থেকে রিবাউন্ড করলে নতুন ট্রেডাররা নতুন শর্ট পজিশন বিবেচনা করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.1132–1.1140-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। এই পেয়ারের মূল্য 1.1198–1.1218 এরিয়ার উপর স্থিতিশীল অবস্থান গ্রহণ করলে লং পজিশন ওপেন করা যেতে পারে, যেখানে মূল্যের 1.1267–1.1275-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।
5-মিনিটের টাইমফ্রেমে, ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা উচিত: 1.1011, 1.1088, 1.1132–1.1140, 1.1198–1.1218, 1.1267–1.1275, 1.1366–1.1377, 1.1461–1.1474, 1.1527–1.1531, 1.1584–1.1594, 1.1655–1.1665। বুধবার যুক্তরাষ্ট্রে মুদ্রাস্ফীতি বিষয়ক প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে এবং ইউরোজোনে ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টিন লাগার্ড দুটি বক্তব্য দেবেন। আশা করা হচ্ছে, লাগার্ড মুদ্রানীতি নিয়ে আরও কিছু মন্তব্য করবেন—তবে ইউরোর মূল্য ক্রমাগত কমতে থাকা সত্ত্বেও ইসিবি যদি মুদ্রানীতি কঠোর করার পথে থাকে, তবে তাঁর সেই মন্তব্যের কতটা গুরুত্ব রয়েছে? তাই ট্রেডাররা মূলত মার্কিন মুদ্রাস্ফীতি প্রতিবেদনের ওপরই মনোযোগ দিচ্ছে।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।